বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য

১৫ নভেম্বর, ২০২১ ১৯:৪৯  
দূরদৃষ্টি নেতৃত্বের জন্য সারা পৃথিবী বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে অবিচ্ছেদ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। সোমবার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বঙ্গবন্ধুর দূরদির্শতা শীর্ষক টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তর আয়োজিত অনলাইন সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী। টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: কামরুজ্জামান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো: খলিলুর রহমান, বিটিআরসি ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের যুগ্ন-সচিব মো: আব্দুল হান্নান, বিটিসিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. রফিকুল মতিন, বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: মশিউর রহমান এবং টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: সাহাব উদ্দিন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সঞ্জিব ঘটক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংযোগসহ টেলিযোগাযোগ খাতে বঙ্গবন্ধুর অবদানকে ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, টিএন্ডটি বোর্ড গঠন, বেতবুনিয়ায় ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন উপগ্রহ ভূ- কেন্দ্র স্থাপন, ১৯৭৩ সালে আইটিইউ এবং ইউপিইউ-এর সদস্য পদ অর্জনের মধ্য দিয়ে ইন্টারনেট ভিত্তিক তৃতীয় শিল্প বিপ্লবে অংশ গ্রহণের যাত্রা বঙ্গবন্ধু শুরু করেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় রোপিত হয় ডিজিটাল বাংলাদেশের বীজ। পঁচাত্তর পরবর্তী অপশক্তির ২১ বছরেরর পশ্চাদপদতা ও জঞ্জাল অপসারণ করে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত দেশে ডিজিটাল সংযোগ ও প্রযুক্তি বিকাশের অভিযাত্রা শুরু হয়। সে সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কম্পিউটারের ওপর ভ্যাট –ট্যাক্স প্রত্যাহার, চারটি মোবাইল ফোনের লাইসেন্স প্রদান, ভিস্যাটের মাধ্যমে ইন্টারনেট চালুসহ ডিজিটাল সংযুক্তি ও প্রযুক্তি বিকাশে যুগান্তকারি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেন। এর ফলে বঙ্গবন্ধুর রোপন করা ডিজিটাল বাংলাদেশের বীজটি বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসূরির সূদুর প্রসারি চিন্তার ফলে চারা গাছে রূপান্তর লাভ করে। ডিজিটাল প্রযুক্তি বিকাশের অগ্রদূত মোস্তাফা জব্বার বলেন, ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি ধারবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে গত ১৩ বছরে ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ মহিরূহে পরিণত হয়েছে। এই কর্মসূচি পৃথিবীর কাছে বাংলাদেশ এক নতুন পরিচয়ে আত্ম প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের প্রতিটি সূচকে অভাবনীয় সফলতা অর্জন করেছে বলে উল্লেখ করেন ডিজিটাল যন্ত্রে বাংলা ভাষার প্রবর্তক  মোস্তাফা জব্বার। মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশ থেকে ডিজিটাল সংযুক্তি বিকাশে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে। পৃথিবীর অনেক দেশ যেখানে ফাইভ-জি প্রযুক্তির কথা ভাবতেই পারেনি সেখানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব আহমেদ ওয়াজেদ –জয়-এর দিকনির্দেশনায় আগামী ১২ ডিসেম্বর ফাইভ-জি যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে আমরা অপটিক্যাল ফাইভার নেটওয়ার্ক পৌছে দিতে সক্ষম হয়েছি। দূর্গম অঞ্চলে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌছে দেওয়ার কাজ চলছে। তিনি চতুর্থ শিল্প বিপ্লব সম্পর্কে বলেন, প্রযুক্তি কখনো মানুষের বিকল্প হতে পারে না। আমরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে ভিন্নভাবে দেখতে চাই। আমরা আমাদের শতকরা ৬৫ ভাগ তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলে প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য কাজ করছি। অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব বলেন, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর অবদান পাথেয় হয়ে থাকবে। মূল প্রবন্ধে টেলিযোগাযোগ খাতে উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর অবদান সবিস্তারে তুলে ধরা হয়।